চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কে দাউদকান্দির খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু হঠাৎ ধসে পড়ায় চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, হাইমচরের ঢাকাগামী লাখ লাখ লোকের দুর্ভোগ চরমে ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ এ সেতুটি ধসে পড়ে। সেই থেকে এ গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের সীমাহীন কষ্ট।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় মজনু মিয়া, আবুল কাসেমসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাতে হঠাৎ এ সেতুটি হুমমুড় করে নিচে ধসে পড়ে। সে সময় নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে চলা কয়েক হাজার ইটভর্তি একটি বাল্কহেডের ওপর সেতু পড়ায় সেটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডের ১৬/১৭ জন শ্রমিক কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচান।
তারা আরও জানান, ওই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ অনেক মুল্যবান জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা দেশি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার মফিজ বকাউল, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেনসহ দুর্ভোগে পড়া অন্যান্য যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে সরাসরি গুরুতর রোগী নিয়ে যেতে ও ফিরতে দৈনিক যাতায়াত করত। তবে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তাদের এখন ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে ভিন্ন পথে গৌরীপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যায় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়, জ্বালানি তেল; লাগছে অতিরিক্ত ভাড়া।
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আব্দুল হামিদও একই কথা জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, এখানে নতুন পাকা সেতু হবে। এটির জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নড়বড়ে বেইলি সেতুটির নাটবল্টু খোলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।
তবে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী লোকজন জনস্বার্থে ভাঙা এ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।